মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

সাংস্কৃতিক দল

পৃথিবীর ৭০টি দেশে প্রায় ৩৭০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করছে। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ২৬ ভাষাভাষীর ৪৫ জাতিসত্তার ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, যার সংখ্যা প্রায় ১ মিলিয়ন বা মোট জনসংখ্যার ১ ভাগ। এদের মধ্যে চাকমা সম্প্রদায়ের মানুষই বেশি। চাকমা ছাড়াও রয়েছে মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, মনিপুরী, কুকি, রাখাইন, গারো, সাঁওতাল, হাজং, বম ও ত্রিপুরা। এদের বেশির ভাগ মানুষ পার্বত্য চট্টগ্রামে বাস করে। আবার সিলেট ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায়ও এদের দেখা যায়। বংশানুক্রমে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকেরা এসব এলাকাতে বসবাস করে আসছে। পাহাড়ি পরিবেশের সঙ্গে এদের জীবন, ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বলতে গেলে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা এ সব ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রকৃত অর্থেই প্রকৃতির সন্তান।

বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পোশাক-আশাক, দৈনন্দিন জীবন যাপন, খাদ্যাভ্যাস, ঘরবাড়ির ধরন প্রায় সবকিছুই সমতলে বসবাস করা মানুষের চেয়ে আলাদা। পাহাড়ের গায়ে গায়ে মাটি থেকে একটু উঁচুতে তৈরি করা ঘরগুলো প্রায় সবই বাঁশ বা কাঠের। বন্য জীবজন্তু থেকে রক্ষা পাবার জন্যই হয়তো ঘরগুলো উঁচুতে বানানো। প্রায় প্রতিটি ঘরের সামনেই মাচার মতো একটি বাসার জায়গা রয়েছে যেখানে বসে তারা নিত্যদিনের কাজকর্ম অথবা অবসরের অলস সময় কাটায়। দূরের দিকে তাকিয়ে দু’চোখ ভরে দেখে প্রকৃতির আপার সবুজ।

খাদ্যের জন্য ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। জুমচাষ তাদের প্রধান পেশা হলেও বংশানুক্রমেই তারা পাহাড়ে জন্মানো বিভিন্ন লতাপাতা, সবজি, ফলমূল খেয়ে বেঁচে থাকে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই জুমচাষের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। পাহাড়ের ঢালে জুম পদ্ধতিতে তারা বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করে এবং উৎপাদনকৃত ফসল স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে। নারী-পুরুষ সবাই এরা কঠোর পরিশ্রমী। ভোর হতেই পিঠে ঝুড়ি বেঁধে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ে। নিজেদের তৈরি ঝুড়িগুলো তারা বিভিন্ন জিনিসপত্র বহনের কাজে ব্যবহার করে। মহিলারা কাজের সময় বাচ্চাদের কাপড় দিয়ে পিঠের সঙ্গে পেঁচিয়ে রাখে।

ছবি


সংযুক্তি



Share with :

Facebook Twitter